29 March 2015

রুট কি? রুট করলে কি কি করতে পারবেন,তার ধারনা!

মনে করুন, আপনি একটা বাসা ভাড়া নিয়েছেন। তাতে সবই ঠিক
আছে, কিন্তু একটা রুম তালা দেয়া, বাড়িওয়ালা খুলতে না
করেছেন, আর খুললে তা নিজের দায়িত্বে খুলতে হবে। আপনার
বাসায় থাকতে কোন অসুবিধা হচ্ছে না, কিন্তু রুমটা খোলা পেলে
আপনি পুরো বাসাটা নিজের মনের মত করে ব্যবহার করতে
পারবেন, তাই না?
রুট করাটাও অনেকটা এরকম নিজ দায়িত্বে তালা খোলার মত।
অর্থাৎ রুট করলেই কোন ব্যাপক পরিবর্তন আসে না, তবে সেটের
সম্পুর্ণ দখল নিজের হাতে আসে। এর ফলে আপনি পুরো সেটটাকে
নিজের মত করে ব্যবহার করতে পারার ব্যবস্থা করতে পারবেন।
অ্যান্ড্রয়েডের প্রচুর অ্যাপ বা সফটওয়্যার আছে, যেগুলোর কাজ
করতে অপারেটিং সিস্টেমের উপর দখল বা অনুমতি লাগে। এই
অনুমতি দেয়ার পদ্ধতিই হল রুট করা বা রুট পার্মিশন দেয়া।
তাহলে আগেই কেন সেট রুট করা থাকে না?
রুট করা সেটের সিস্টেম ফাইলগুলোর উপরে ইউজার সহজেই
মাতব্বরি করতে পারে। না বুঝে তাই ইউজার সহজেই সেটের
বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে, যেটা সেটের জন্য নিরাপদ না।
তাই আগেই সেট রুট করা থাকে না।
রুট করলে সমস্যা কি?
১। ওয়ারেন্টি থাকে না।
২। কাস্টমার কেয়ারে গেলে ডেডরিস্কের ভয় দেখায় (সবখানে
না)।
৩। ভুল কোন কাজের কারণে সেট নষ্ট হলেও হতে পারে, এটা
যার যার নিজের দায়িত্ব। দেয়াল টপকাতে গিয়ে আপনার পা
ভাংতেই পারে।
সমাধান কি?
১। প্রয়োজনের সময়ে আন-রুট করে ফেলা, এটা খুবই সহজ কাজ।
২। সেটের Back-Up, Flash করার জন্য দরকারী সব ফাইল,
নির্দেশনা ও সফটওয়্যার কম্পিউটারে রাখা, এগুলো বিপদে
কাজে আসে।
৩। না বুঝে কোন কাজ না করা, যারা ভালো পারে তাদের
সাহায্য নিয়ে বুঝে কাজ করা।
৪। নেট কানেকশন অথবা এক্সপার্টদের ফোন নাম্বার রাখা,
যাতে প্রয়োজনের সময়ে যোগাযোগ করা যায়।
৫। না যেনে এক সেটের কোন পদ্ধতি অন্য কোন সেটে প্রয়োগ না
করা।
রুটের সুবিধা কি?
আগেই বলেছি, অ্যান্ড্রয়েডের প্রচুর অ্যাপ বা সফটওয়্যার আছে,
যেগুলোর কাজ করতে অপারেটিং সিস্টেমের উপর দখল বা অনুমতি
লাগে। এখন প্রশ্ন হল এই অ্যাপগুলো দিয়ে আপনি কি কি করতে
পারবেন, তাই তো?
আমি এক্সপার্ট নই বিধায় এখানে অল্পকিছু অ্যাপ যা আমি নিজে
ব্যবহার করি, তা নিয়ে আলোচনা করবো, আশা করি ভবিষ্যতে
আরও আলোচনা করতে পারবো।
***সবক্ষেত্রে এই অ্যাপগুলো কাজ নাও হতে পারে।

১। অ্যাড দূর করা -AdAway: অ্যান্ড্রয়েডের একটা বিরক্তিকর
দিক হল অ্যাড। এটা প্রচুর সময় এবং ডাটা নষ্ট করে। এই
অ্যাপটি এই সমস্যার সহজ সমাধান।

২। পেইড অ্যাপ এবং গেমের মানি ও পয়েন্ট ফ্রিতে কেনা ও
চালানো –Freedom: এই অ্যাপটি আপনাকে একটি False Credit
Card এর মাধ্যমে প্লেস্টোর থেকে পেইড অ্যাপ এবং গেমের
মানি ও পয়েন্ট ফ্রিতে কেনা ও চালানোর সুযোগ দেবে। এতে
আছে Off-line verification, যা পেইড অ্যাপকে লিগাল হিসেবে
ব্যবহার করার সুযোগ দেয়।

৩। গেম চিটিং ও হ্যাকিং –GameCIH: এর মাধ্যমে আপনি
গেমে চিট ও হ্যাক করে পয়েন্ট, মানি ইত্যাদি বাড়াতে এবং
আইটেম আনলক করতে পারবেন।

৪। ডাটা/মেগাবাইট সেভিং –DroidVPN: এর মাধ্যমে আপনি
অযথা ডাটা/মেগাবাইট খরচ কমাতে পারবেন।

৫। ব্যাটারী সেভিং –Greenify: এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন
অ্যাপকে Hibernate করে/ঘুম পাড়িয়ে চার্জ সেভ করতে
পারবেন।

৬। Smoothly গেম খেলা/Lagging কমানো –Seeder ও
Gamebooster: বিভিন্ন অপশন যোগ করা, লুক চেঞ্জ করা
Smoothly গেম খেলতে/Lagging কমাতে পারবেন।

৭। সাউন্ড কোয়ালিটি বাড়ানো –ViPER4Android: সাউন্ড
কোয়ালিটি বাড়ানোর জন্য এই অ্যাপের কোন বিকল্প নেই।

৮। বিভিন্ন অপশন যোগ করা, লুক চেঞ্জ করা –Xposed Installer:
এর বিভিন্ন মডিউল ইন্সটল করার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন অপশন
যোগ করা, লুক চেঞ্জ করা ইত্যাদি করতে পারবেন।

৯। সিপিউ কন্ট্রোলের মাধ্যমে পারফরমেন্স নিয়ন্ত্রণ করা –
No-frills CPU Control: এর মাধ্যমে আপনি সেটের পারফরমেন্স
নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
১০। সেটের র্যাম ও রম বাড়ানো –RAM Expander ও ROM Edit:
এগুলো সেটের নিজস্ব মেমরী অথবা মেমরী কার্ড ব্যবহার করে
সেটের র্যাম ও রম বাড়ানোর কাজ করে।

১১। সম্পুর্ণ সেটের Back-up ও Restore করা -TWRP ও CWM:
এগুলো হল রিকভারি মেথড, এর মাধ্যমে আপনি সম্পুর্ণ সেটের
Back-up ও Restore করতে পারবেন, যা বিপদে খুবই কাজে আসে।

১২। খুব সহজে সিস্টেম ও ডাউনলোডেড অ্যাপ+ডাটা এর Back-
up, Restore, Install, Un-Install ইত্যাদি করা -Titanium Back
up: এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজে সিস্টেম ও ডাউনলোডেড অ্যাপ
+ডাটা এর Back-up, Restore, Install, Un-Install ইত্যাদি
করতে পারবেন, এমনকি এক সেটের Back-up অন্য সেটে Restore
করতে পারবেন।
যেমন ধরুন, আপনি একটা ফুটবল গেম খেলছেন আপনার সেটে,
আপনি একটা টুর্নামেন্টের ৫টা ম্যাচ খেলে তার অ্যাপ+ডাটা
এর Back-up করলেন। কোন কারণে যদি আপনার সেট রিস্টোর
দিতে হয়, বা সেট বদলাতে হয়, সমস্যা নেই, আপনি ঐ Back-
upগুলি Restore করে ৬ নাম্বার ম্যাচ থেকে গেম Continue
করতে পারবেন। এভাবে প্রায় সব অ্যাপ+ডাটা Back-up,
Restore, Install, Un-Install ইত্যাদি করা যাবে।

“কাস্টম রম” ব্যবহারঃ এটি কোন অ্যাপ না। এর ব্যাপারে
বিস্তারিত পরের পোস্টে লিখব। তবে সংক্ষেপে কিছু না
লিখলেই নয়-
খেয়াল করলে দেখবেন, স্যামসাং, সনি ইত্যাদি সেট
অ্যান্ড্রয়েড হলেও এদের সেটে কিছু এক্সট্রা ফিচার, অপশন,
ফাংশন থাকে, আর লুকও ভিন্ন হয়। অর্থাৎ, এদের অপারেটিং
সিস্টেম বা “রম” এডিট করা থাকে।
এখন, একজন ইউজারের ইচ্ছা হতেই পারে অন্য কোন সেটের
স্পেশাল সুবিধা ব্যবহার করার। এই ইচ্ছাপূরণের উপায় হল
“কাস্টম রম” ব্যবহার করা। এক্সপার্টরা কোন একটা সেটের
অপারেটিং সিস্টেম বা “রম”কে অন্য সেটে ব্যবহারের উপযোগী
করে তোলেন। এই ব্যবহারের উপযোগী অপারেটিং সিস্টেম বা
“রম”ই হল “কাস্টম রম”।
যেমন, Xperia কাস্টম রম ব্যবহার করে আপনি Walton R3-কে
সম্পুর্ণভাবে Xperia সেটে রূপান্তরিত করে Xperia না কিনেও
তা চালানোর মজা নিতে পারেন!

0 comments:

Post a Comment